1. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
  2. info@www.bhorerawaj.com : দৈনিক ভোরের আওয়াজ :
রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শেরপুর সীমান্তে বন্য হাতির আক্রমণে আহত ১ পাসপোর্ট অধিদফতরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ: বরখাস্ত ও দুদকের মামলা! জীবনের শেষ প্রান্তে এক নিঃশব্দ যোদ্ধা: সাংবাদিক জামাল উদ্দিনকে হারিয়ে আমরা শোকস্তব্ধ নিরাপত্তাহীন ঈদ: সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও অপরাধের উত্থান বাকলিয়া থানার পুলিশ কর্তৃক ডাবল মার্ডার কিলিং মিশনের দুই আসামি গ্রেফতার দাগনভূঞা থানার ওসি লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে  অভিযোগের পাহাড়! ভিক্ষুক সেফালী রানী দাস থেকে টাকা চাওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন : এস আই রোকন পাটগ্রামের বাউরায় ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত  চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে স্বর্ন, সিগারেট, মোবাইল ও বিপুল পরিমান অর্থসহ আটক ৪ চেরাগির আলোয় সাংবাদিক ও লেখকদের মিলনস্থল— ক্যাফে চেরাগি চক

চাষা বলে কর ঘৃণা! – কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যচিন্তা ও তাৎপর্য

মোঃ কামাল উদ্দিন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

“সব সাধকের বড় সাধক এই দেশেরই চাষা,
তাদের নিয়ে দেশব্যাপী করে সকল আশা।”
এই গীতির মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে, সমাজের সব সাধক বা মহামানব, যারা মানুষের জন্য কিছু করেছেন, তাদের মধ্যে প্রকৃত সাধক হচ্ছেন দেশের চাষি। চাষিরা মাটির সাথে সম্পর্কিত, তারা জীবনযাত্রার মূল চালিকা শক্তি, যারা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও নিবেদন দিয়ে দেশকে চালিত করে। কাজী নজরুল ইসলাম চাষিদেরকে কেবল একটি সাধারণ শ্রেণি হিসেবে নয়, বরং দেশের অগ্রগতির পেছনে তাদের অবদানকে মহিমান্বিত করেছেন। চাষিরা তাদের নীরব পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজের জন্য যে পুষ্টি, খাদ্য এবং সেবা প্রদান করে, সেটি সাধারণ মানুষের কাছে কখনোই প্রকাশ পায় না। তবে, কবি তাদের সম্পর্কে বলেন—”সব সাধকের বড় সাধক এই দেশেরই চাষা”—এতে বোঝানো হয় যে, চাষিরা সমাজের প্রকৃত সন্তোষজনক এবং সেরা সাধক, যারা দানে, পরিশ্রমে এবং ভালোবাসায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া, “তাদের নিয়ে দেশব্যাপী করে সকল আশা”—এই লাইনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চাষিরা যদি ঠিকমত সম্মানিত হয় এবং তাদের ভূমিকা স্বীকৃত হয়, তবে দেশ উন্নতির পথে চলতে পারে। তাদের শ্রম ও ভালোবাসাই জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
তাদের অবদানকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তারা প্রত্যেক দিন, প্রতিটি মুহূর্তে সমাজকে খাদ্য, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। এই কারণে, কবির ভাষায় চাষিরাই সব সাধকের মাঝে সেরা, কারণ তাদের কাজই পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখে।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি, তাঁর সাহিত্যিক কর্মে বারবার সমাজের ন্যায্যতা ও মানবতার কথা বলেছেন। “চাষা বলে কর ঘৃণা!” শীর্ষক এই কবিতাটি তাঁর সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর অনুরাগের প্রতীক। এটি শুধু এক বিশেষ শ্রেণির প্রতি ঘৃণার বিপরীতে প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর নয়, বরং মানব সমাজের অগ্রগতির লক্ষ্যে ন্যায়বিচার ও সমতার প্রতি কবির অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দেয়। কবিতার প্রেক্ষাপট ও ভাবনাচিন্তাঃ
“চাষা বলে কর ঘৃণা!” কবিতার প্রথম লাইনেই কবি এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাকে তুলে ধরেন—চাষি বা কৃষক সমাজের প্রতি মানুষের প্রচলিত ঘৃণা ও অবহেলা। চাষি, যারা সমাজের ভিত্তি নির্মাণকারী, তাদের প্রতি এই ঘৃণা কোনোভাবেই সুবিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে, কবি এই ঘৃণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, এবং তিনি জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ
“দেখো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না!” এই লাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কাজী নজরুল ইসলাম চাষির মধ্যে ঈশ্বরের গুণাবলি দেখতে পেরেছেন। তিনি তুলে ধরেছেন, যে ‘চাষা’ বা ‘কৃষক’ সমাজে অবহেলিত বা ছোট মনে হলেও তার মধ্যে লুকানো রয়েছে ঈশ্বরের শক্তি। ‘জনক বলরাম’ এখানে এক ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে বলরামকে কৃষির দেবতা বা ভূমির সুরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবি এটি বলতে চেয়েছেন যে, প্রকৃত কৃষকই পৃথিবীর অমূল্য সম্পদের রক্ষক, আর তার মধ্যে একটি গভীর ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়।
নবীর ভূমিকা ও চাষির সম্পর্ক
কবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—”যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও ধরিল হাল, তারাই আনিল অমর বাণী-যা আছে রবে চিরকাল।” এখানে কবি ইতিহাসের এক গভীর সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যেখানে তিনি নবী-রাসূলদের কৃষক বা রাখাল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ইসলামের নবী, যিশু, মুসা এবং অন্যান্য ধর্মের নবীরা সবাই মেষপালক বা কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। তাঁদের প্রচারিত অমর বাণীগুলির মধ্যে কৃষির প্রতি ভালোবাসা, সংগ্রাম ও মানবতার ধারণা বিদ্যমান ছিল। কাজী নজরুল ইসলাম মনে করেন, চাষিই প্রকৃত ধনীদের মতো, যারা আসলে পৃথিবীর অমূল্য রত্ন—তাদেরই মধ্যে নবী-ঈশ্বরের বাণী নিহিত ছিল, এবং সেই বাণী চিরকাল বেঁচে থাকবে।সমাজের পরিবর্তন ও চাষির মর্যাদাঃ কবিতাটির মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন—সমাজের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। তিনি চাষিকে শুধুমাত্র সমাজের এক অংশ হিসেবে নয়, বরং সৃষ্টির সেবক এবং মানুষের জীবনধারণের মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। চাষির মূল্য নিয়ে কোনো অবহেলা করা, তাঁর প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা—এইসবই মানবতার প্রতি অবিচার, এবং কবি সেটির প্রতিবাদ করেছেন। “চাষা বলে কর ঘৃণা!” কবিতাটি একটি শক্তিশালী সমাজবোধের পরিচয় দেয়, যেখানে চাষিকে শুধু সম্মান জানানো উচিত, বরং তাঁর মহত্ত্বকে উপলব্ধি করে তাকে সমাজের মূল সঞ্চালক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কাজী নজরুল ইসলাম এই কবিতার মাধ্যমে সমাজের নীচুস্তরের মানুষের প্রতি, বিশেষ করে কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “যত নবী ছিল মেষের রাখাল”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে কবি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক, এবং প্রকৃতির জন্য মানুষের অবদানকে অমর করেছেন।
হযরত আদম (আ.) ইসলাম ধর্মের প্রথম নবী এবং মানবজাতির প্রথম পুরুষ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত আদম (আ.) মানব জাতির পিতা, এবং আল্লাহ তাআলা তাকে পৃথিবীতে প্রথম মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর সাথে চাষাবাদ বা কৃষির সম্পর্ক নিয়ে কিছু ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কাহিনী রয়েছে যা ইসলামী ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। হযরত আদম (আ.) ও প্রথম চাষাবাদঃ ইসলামী ইতিহাসের মতে, হযরত আদম (আ.) যখন পৃথিবীতে প্রথমবার এসে বসবাস শুরু করেন, তখন তিনি ও তার পরিবার প্রাথমিকভাবে খেতে এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রকৃতি থেকে সরাসরি উপকৃত হতেন। তবে, এই সময় তাদের জন্য কৃষির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার সন্তানদের চাষাবাদ ও ভূমির ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দেন।
বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে এবং তাফসির (ব্যাখ্যা) বইয়ে বলা হয়েছে, হযরত আদম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। তাঁকে ভ землю এবং শস্য চাষের মৌলিক জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ের মানুষের জন্য এক মহান শিক্ষা হিসেবে পরিগণিত হয়।
আদম (আ.) এর কৃষিকাজের গুরুত্বঃ ১. প্রথম কৃষি শিক্ষার উদ্ভব: হযরত আদম (আ.) প্রথম কৃষক ছিলেন এবং চাষাবাদ তাঁর জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠেছিল। আল্লাহ তাআলা তাকে চাষাবাদ ও কৃষির মাধ্যমে মানবজাতির খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার উপায় শিখিয়েছিলেন। আদম (আ.) মানুষের জন্য কৃষির মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন। ২. কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিক্ষা: হযরত আদম (আ.) কৃষি বা চাষাবাদের মাধ্যমে মানুষের জন্য এক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি শস্য উৎপাদন, মাটি চাষ এবং কৃষির অন্যান্য মৌলিক কাজ শেখানোর মাধ্যমে মানব জাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেন।
৩. প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা: চাষাবাদ শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের জন্য নয়, বরং এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং পৃথিবীকে তার সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য একটি শিক্ষা ছিল। আদম (আ.) কৃষি এবং প্রকৃতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা পেয়ে সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। হযরত আদম (আ.) এর চাষাবাদ ও পরবর্তী যুগঃ হযরত আদম (আ.) এর পর তাঁর সন্তানেরা চাষাবাদ এবং কৃষি সম্পর্কে আরও উন্নত জ্ঞান লাভ করেন। তারা বিভিন্ন শস্য চাষের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবনের ধারাকে সুস্থিত এবং প্রগতিশীল করে তোলেন। আদম (আ.) এর যুগ থেকেই কৃষি মানব সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
এইভাবে, ইসলামী বিশ্বাসে হযরত আদম (আ.) কে প্রথম চাষি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তিনি মানব জাতির জন্য কৃষির মূল শিক্ষা দেন এবং এটি পৃথিবীতে মানুষের জীবনধারণের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠে। হযরত আদম (আ.) ইসলাম ধর্মের প্রথম নবী হিসেবে চাষাবাদের সূচনা করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, চাষাবাদ কেবল খাদ্য উৎপাদন নয়, বরং পৃথিবী এবং প্রকৃতির সঠিক ব্যবহার, মানব জাতির উন্নতি এবং সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাষাবাদকে তিনি শুধু একটি কর্ম নয়, বরং মানবজাতির জন্য একটি আশীর্বাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
চাষাবাদের আদি ইতিহাসঃ
চাষাবাদ বা কৃষিকাজের ইতিহাস মানবসভ্যতার শুরু থেকে অত্যন্ত প্রাচীন। প্রাচীনকালে মানুষ শিকারী-সংগ্রাহক ছিল। তারা বন্য ফল, গাছপালা, এবং পশু শিকার করে জীবন ধারণ করত। তবে, কৃষির উদ্ভব হলো যখন মানুষ প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, ভূমি চাষ করতে শুরু করল এবং শস্য উৎপাদন করল। এই পরিবর্তনটি প্রথম ঘটেছিল আনুমানিক ১০,০০০ বছর আগে, যখন মানুষ প্রথম জীবিকার জন্য কৃষিকাজ শুরু করে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, ইরাকের ‘ফার্টাইল ক্রিসেন্ট’ অঞ্চল (বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান) চাষাবাদের শুরু হওয়ার স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে মানুষ প্রথম গম, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, এবং বিভিন্ন শস্য চাষ করেছিল।
চাষাবাদ মানুষকে এক জায়গায় স্থায়ী হতে প্ররোচিত করেছিল, ফলে গড়ে উঠেছিল বসতি এবং নগর সভ্যতা। যেহেতু কৃষিকাজ মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করত, তেমনই এটি তাদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। চাষাবাদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমাজের গঠন এবং মানব ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে।
চাষাবাদ করে বিখ্যাত হওয়া ব্যক্তিরাঃ
বিশ্ব ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির জীবন চাষাবাদ এবং কৃষির সাথে সম্পর্কিত। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো:
মহাত্মা গান্ধী – ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা মহাত্মা গান্ধী নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং চাষাবাদ ও কৃষির প্রতি তার অনেক আগ্রহ ছিল। তিনি ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলনে কৃষকদের অধিকার ও ভূমির সঠিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছেন। জর্জ ওয়াশিংটন – আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন কৃষক ছিলেন এবং তার একটি বিশাল কৃষি খামার ছিল। তিনি কৃষি ও চাষাবাদের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন।
থমাস এডিসন – বিশ্বের বিখ্যাত উদ্ভাবক, থমাস এডিসন তার জীবনকালে কৃষির উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, বিশেষত কৃষিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি। গ্রানভিল ডব্লিউ. ব্ল্যাকওয়েল – তিনি কৃষি গবেষণায় অবদান রেখেছিলেন এবং চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
এছাড়া অনেক বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, এবং সমাজকর্মী রয়েছেন যারা চাষাবাদ এবং কৃষির উন্নতি সাধনে অবদান রেখেছেন।
চাষাবাদের প্রতি মানুষের অনিহা কেন?
বিশ্বব্যাপী চাষাবাদে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে কিছু প্রধান কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম:
যান্ত্রিকীকরণ ও শিল্পায়ন: আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন মানুষের জীবনধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। শহরগুলিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুবসমাজের মধ্যে কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। মানুষের মধ্যে কৃষির প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করে কৃষিকাজ একটি পরিশ্রমী ও কম লাভজনক কাজ।
আর্থিক সংকট: কৃষকদের জন্য আয়ের উপায় সীমিত এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বেশ খারাপ। বিশেষত ছোট কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: পৃথিবীজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, শুকনো মৌসুম, এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন কৃষির ওপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়েছে এবং এর ফলে তাদের দৃষ্টি শিল্পক্ষেত্রের দিকে চলে যাচ্ছে।
শিক্ষার অভাব: অনেক ক্ষেত্রে চাষাবাদের বিষয়ে আধুনিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তির অভাবও একটি বড় সমস্যা। কৃষকরা এখনও ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে, যা লাভজনক নয় এবং কার্যকরী নয়, শহরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার আকর্ষণ: শহরগুলিতে আধুনিক জীবনযাত্রা, শিক্ষার সুযোগ, এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা তরুণদের কৃষি থেকে দূরে সরিয়ে ফেলছে। তারা কৃষিকে কঠিন এবং পিছিয়ে পড়া কাজ মনে করে।
চাষাবাদ মানব সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তবে, আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, এবং সামাজিক পরিবর্তনের ফলে চাষাবাদে আগ্রহ কমে গেছে। আমাদের উচিত কৃষির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং চাষাবাদের আধুনিকায়ন করা, যাতে কৃষকরা আরও লাভবান হতে পারে এবং তারা চাষাবাদে নতুন উদ্যমে ফিরে আসতে পারে। কৃষির উন্নতি ও আধুনিকায়নই আমাদের ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট