চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার পুলিশ চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডার কিলিং মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণকারী দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। বাকলিয়া থানা পুলিশের এই সফল অভিযান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ-
৩০ মার্চ ২০২৫, রাত আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটে বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাইভেটকার (চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯০৬৮) লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় ৬-৭টি মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। গাড়িতে অবস্থান করছিলেন সরোয়ার হোসেন বাবলা, আব্দুল্লাহ আল রিফাত, মো. বখতিয়ার হোসেন (২৮), মো. ইমন, রবিউল হোসেন হৃদয় ও রবিন।
হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে প্রাইভেটকারটিকে চকবাজার থানাধীন এক্সেস রোডের শেষ প্রান্তে সিরাজ-উদ-দৌলা রোড সংলগ্ন ঢাকাইয়া খানা নামক দোকানের সামনে থামতে বাধ্য করে এবং রাত আনুমানিক ২টা ১৪ মিনিটে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন মো. বখতিয়ার হোসেন (২৮), আব্দুল্লাহ আল রিফাত (২২), রবিউল হোসেন হৃদয় ও রবিন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. বখতিয়ার হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গ্রেফতার অভিযান ও আসামিদের পরিচয়- হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাকলিয়া থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। একাধিক অভিযান পরিচালনা করে বাকলিয়া থানা পুলিশ নিম্নলিখিত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়:
১। মো. বেলাল (২৭) – পিতা: মো. রফিক, মাতা: মর্জিনা বেগম, সাং: ইসলামপুর, সন্দ্বীপপাড়া, লামা, বান্দরবান। বর্তমানে চাঁনগাঁও থানাধীন খাজা রোড বাদামতল এলাকায় বসবাস করছিলেন। গ্রেফতারের সময় তার ঘটনার দিন পরিহিত পোশাক উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। ২। মো. মানিক (২৪) – পিতা: মৃত আবুল হাশেম, মাতা: মৃত জরিনা বেগম, সাং: কাঞ্চননগর, অলিপাড়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। তিনি এই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহকারী। তাকে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বাকলিয়া থানার পুলিশের অগ্রগতি ও পরবর্তী ব্যবস্থা-
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকলিয়া থানার পুলিশ মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিরা: মো. হাসান (৩৬)
মোবারক হোসেন ইমন (২২)
খোরশেদ (৪৫) রায়হান (৩৫)
অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জন
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং কারা এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী, তা উদ্ঘাটনে বাকলিয়া থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাকলিয়া থানা পুলিশের এই সফল অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করবে।